৭ আগষ্ট উপলক্ষে আলোচনা সভায় নেতৃবৃন্দ : আওয়ামীলীগকে নিশ্চিহ্ন করতেই একের পর এক গ্রেনেড হামলা চালিয়েছে চারদলীয় জোট
এক গ্রেনেড ও বোমা হামলা চালিয়েছে। গুলশান সেন্টারে মহানগর আওয়ামী লীগের সভায় গ্রেনেড হামলার পর দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা সিলেট আসেন। তিনি গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদে ২১ আগষ্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ আহবান করেন। সেই সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করে জোট সরকার।
গতকাল মঙ্গলবার বেলা ২টায় ইব্রাহিম স্মৃতি সংসদে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি সিটি মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ বলেন, জোট সরকার শুধু হামলা চালিয়েই ক্ষান্ত হয়নি। তারা মামলা ভিন্ন খাতে প্রবাহের জন্য আওয়ামী লীগ নেতাদের গ্রেফতার ও হয়রানি করে। গ্রেনেড হামলা মামলার অন্যতম আসামী বিপুলকে বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলী আশ্রয় দিয়েছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিপুল ইলিয়াস আলীর মালিকানাধীন আলী কন্সট্রাকশনে চাকরি করতো।
সিটি মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান বলেন- আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করার ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই ২০০৪ সালের ৭ আগষ্ট সিলেটের গুলশান সেন্টারে আওয়ামী লীগের সভায় গ্রেনেড হামলা চালানো হয়েছিলো। এই চক্র জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও হত্যার চেষ্টা করেছে। তারা ইতোমধ্যে আইভি রহমান, শাহ এএমএস কিবরিয়া সহ অনেক নেতাকে হত্যা করেছে। আহত হয়েছেন অনেক নেতাকর্মী।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন- নিহত মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক ইব্রাহিম আলী ছিলেন দলের একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি দলের কল্যাণে কাজ করে গেছেন। দলের সকল আন্দোলন সংগ্রামে তিনি রাজপথে ছিলেন সবার আগে।
আওয়ামী লীগ নেতা ফয়জুল আনোয়ার আলোয়ারের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ, আওয়ামী লীগ নেতা এডভোকেট রাজ উদ্দিন, অধ্যাপক জাকির হোসেন, এ টি এম হাসান জেবুল, এডভোকেট রাধিকা রঞ্জন হোম চৌধুরী, এডভোকেট শামসুল ইসলাম, তপন মিত্র, এডভোকেট শেখ মকলু মিয়া, এডভোকেট সৈয়দ শামীম আহমদ, জাফর চৌধুরী, প্রদীপ পুরকায়স্থ, এডভোকেট বেলাল আহমদ, মুসফিক জায়গীরদার, কয়েছ উদ্দিন আহমদ, আব্দুস সোবহান, জামাল চৌধুরী, সুদীপ দে, এডভোকেট জুবেল আহমদ, রাহাত তরফদার, ইমরুল হাসান, ফয়সল আজাদ খান, দেবাংশু দাস মিঠু, ফারুক আহমদ প্রমুখ।
এদিকে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান বলেছেন, বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে যারা হত্যা করেছে তাদের পূর্বপুরুষ এই দেশে রয়েছে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে গড়া সৈনিক মোঃ ইব্রাহিম একজন মহৎ সত্যনিষ্ঠ আদর্শ মানুষ ছিলেন। তাকে যারা গ্রেনেড হামলা করে হত্যা করেছে তাদের বিচার একদিন এই বাংলার মাটিতেই হবে। আওয়ামীলীগ যতদিন বেঁচে থাকবে ততদিন মোঃ ইব্রাহিম আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবেন। তিনি বলেন তৎকালীন জামায়াত জোট সরকার দেশে গ্রেনেড হামলা, বোমাবাজি, সন্ত্রাসী করে দেশে হত্যার নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছিল। তাদের উদ্দেশ্য ছিল গ্রেনেড বোমা হামলা করে আওয়ামীলীগের সকল নেতাকর্মীকে হত্যা করে আওয়ামীলীগকে শেষ করে দেওয়া। তাদের সেই নৈরাজ্য বাস্তবায়ন হয়নি। বর্তমান মুক্তিযুদ্ধে স্বপক্ষের সরকার ক্ষমতায় আসার পর আজ পর্যন্ত কোন মসজিদ, মাদ্রাসা, জনসমাবেশ গ্রেনেড বোমা হামলা হয়নি। এটাই প্রমাণ করে জামাত জোট সরকার এই দেশে জঙ্গিবাদের উত্থান সৃষ্টি করেছিল।
গ্রেনেড হামলায় নিহত মোঃ ইব্রাহিম‘র মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ইব্রাহিম স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথাগুলো বলেন।
গতকাল মঙ্গলবার নগরীর ইব্রাহিম স্মৃতি সংসদে আয়োজিত আলোচনা সভায় সিলেট জেলা আওয়ামীলীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক এবং ইব্রাহিম স্মৃতি সংসদের সভাপতি ডা. আরমান আহমদ শিপলুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মেহেদী কাবুলের পরিচালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুস জহির চৌধুরী সুফিয়ান, জেলা আওয়ামীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নিজাম উদ্দিন, মহানগর আওয়ামলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন, জেলা আওয়ামীলীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক ইসতিয়াক আহমদ চৌধুরী, মহানগর আওয়ামীলীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক দিবা কর ধর রাম, জেলা আওয়ামীলীগের উপ-প্রচার সম্পাদক মোস্তাক আহমদ পলাশ, মহানগর আওয়ামীগের কার্র্র্যকরী সদস্য জামাল আহমদ চৌধুরী। এসময় আরো বক্তব্য রাখেন মহানগর যুবলীগ নেতা ফারুক আহমদ, কয়েস উদ্দিন আহমদ, সাবেক ছাত্রনেতা পিযুষ কান্তি দে, যুবনেতা উস্তার আলী, দৈনিক শ্যামল সিলেট পত্রিকার বার্তা সম্পাদক আবুল মোহাম্মদ, যুব সংগঠক মনোরঞ্জন তালুকদার, সাংবাদিক মোঃ বাদশা গাজী, ফয়জুনুর জাকি, কালাম আহমদ, রেজাউল ইসলাম টিটু, ফুয়াদ উদ্দিন পলাশ, আব্দুল গফ্ফার মিন্টু, মোস্তাক আহমদ, কাবুল আহমদ, মোরাদ আহমদ, শাহেদ আহমদ, ওয়াসিম আহমদ, আহমদ আলী সুমন প্রমুখ। বিজ্ঞপ্তি












