বিয়ানীবাজার ও জকিগঞ্জ সীমান্তে মৎস্য আহরণে বিএসএফর বাধা : এলাকায় আতংক
এটিএম তুরাব, বিয়ানীবাজার থেকে : বিয়ানীবাজার ও জকিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বিএসএফ ও বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বিজিবির মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিএসএফ এর নানাভাবে নির্যাতন ও হুমকির কারণে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বিএসএফ বিভিন্ন ইস্যুতে শক্তি বৃদ্ধি করায় সীমান্ত এলাকার লোকজনের মধ্যে আতংক বিরাজ করছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিন পূর্বে কুশিয়ারা নদীর স্রোতের তোড়ে ভারতের একটি পল্টুন কুশিয়ারা নদী দিয়ে ভেসে আসে। বিএসএফ তা উদ্ধারের জন্য নানা ভাবে তৎপরতা শুরু করে। কিন্তু তা না পেয়ে তারা বিজিবিকে পল্টুনটি বের করে দেয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। একাধিকবার বিজিবি বাংলাদেশ সীমান্তে পল্টুনটি নেই বলে জানালেও বিএসএফ তা মানতে নারাজ। এনিয়ে স্থানীয়ভাবে পতাকা বৈঠক বসলে বিজিবি বাংলাদেশ এলাকার ২০ কিলোমিটারের মধ্যে তাদের পল্টুন পাওয়া যায়নি বলে জানায়। তারপরও বিএসএফ তাদের পল্টুনটি বের করে দেয়ার জন্য বিজিবি’র উপর চাপ অব্যাহত রেখেছে। এছাড়াও বিএসএফ জকিগঞ্জ উপজেলার লোহার মহল, সোনাপুর, লক্ষ্মীবাজার ও বিয়ানীবাজার উপজেলার গজুকাটা সীমান্ত এলাকায় কুশিয়ারা নদী থেকে মৎস্য আহরণ করতে নিষেধ করেছে বিএসএফ। বিএসএফ-বিজিবিকে জানিয়ে দিয়েছে সন্ধ্যার পর থেকে বাংলাদেশী জেলেরা যদি নদীর মধ্যবর্তী স্থান অতিক্রম করে তাহলে জেলেদের গুলি করে হত্যা করা হবে। বিজিবির নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কর্মকর্তা জানান, বিএসএফ’র বাড়াবাড়িতে তারা সব সময় আতংকের মধ্যে আছেন। কোন সময় সীমান্তে কি ঘটে যায় সার্বক্ষণিকভাবে তারা পর্যবেক্ষণ করছেন। বিষয়টি নিয়ে নিয়মিতভাবে তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট দিচ্ছেন। সূত্রটি আরো জানায়, কখন কি ঘটে যায় তা বলা মুশকিল। তাই সব সময় সতর্ক অবস্থায় আমাদের থাকতে হয়ে। বিএসএফ’র অহেতুক বাধার কারণে মৎস্যজীবীদের আতংকিত অবস্থায় মৎস্য আহরণ করতে হচ্ছে। সূত্রটি জানায়, বিএসএফ কেন এই শান্ত সীমান্তকে অশান্ত করতে চাচ্ছে তা তাদের শক্তি বৃদ্ধি করে সীমান্তে টহল ও নানা রসদ সামগ্রী নিয়ে দীর্ঘ অবস্থানের খবরও বিজিবি বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে পাচ্ছে বলে সূত্রটি জানায়।











