আমাদের ভরসা শুধু আল্লাহ : ইলিয়াস পরিবার
জিন্নাতুন নূর : ইলিয়াস আলীকে খুঁজে বের করার তদন্ত কাজে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো সহযোগিতা করছে না বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। ‘সিলেট হাউসে’র বাইরে একটি সিসি টিভি ক্যামেরা লাগিয়েই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের সব দায়িত্ব পালন করে ফেলেছে! গতকাল দুপুরে সিলেট হাউসে ইলিয়াস আলীর বড় ছেলে আবরার বলেন, তাদের বাসায় সিসি টিভি ক্যামেরা শুধু লোক দেখানোর জন্যই লাগানো হয়েছে, এর নিয়মিত মনিটরিং হচ্ছে না। পরিবার আরও জানায়, ইলিয়াস আলীর সন্ধানে তদন্তের ব্যাপারে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করলে ‘চেষ্টা চালানো হচ্ছে’ বলে তাদের আশ্বস্ত করতে চাইলেও বাস্তবে কোনো অগ্রগতি নেই, সবাই যেন চুপসে গেছে। পরিবারের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন আর কোনো যোগাযোগই রাখছে না।
জানা যায়, ইলিয়াস আলী নিখোঁজের বেশ কিছুদিন পর তার মোবাইলে ফোন করলে তাতে রিং হতো। এমনকি তার মোবাইল নম্বর থেকে পরিবারের সদস্যদের কাছে মিসকলও এসেছিল বলে বিশ্বস্ত সূত্র জানায়। বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহমিনা রুশদীর লুনা অসুস্থ থাকায় কথা হয় তার ছোট ভাই আকসির আলীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আল্লাহর উপরই এখন আমাদের একমাত্র ভরসা। প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে পরিবারের সব সদস্যের এখন একটাই দাবি। যে কোনো মূল্যে ইলিয়াস আলী ও তার ড্রাইভার আনসার আলীকে ফিরিয়ে দেওয়া হোক। এর বিনিময়ে তারা প্রভাব-প্রতিপত্তি সব কিছু ছাড়তে রাজি। সর্বাত্দক প্রচেষ্টা ও আন্তরিকতার সঙ্গে এ নিখোঁজ মানুষ দুটিকে খুঁজে বের করা হবে এমনই আশা ইলিয়াস আলীর পরিবারের সদস্যদের। জানা যায়, ইতোমধ্যে ইলিয়াস আলী নিখোঁজ হওয়ার সাড়ে তিন মাস পার হয়ে গেছে। ইলিয়াস আলীর বৃদ্ধা মা সূর্যবান বিবির আহাজারি থামছেই না। একই অবস্থা ইলিয়াস আলীর স্ত্রী লুনারও। শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণে (উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস) লুনা শয্যাশায়ী। চিকিৎসক লুনাকে পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে বলেছেন। বাবার নিখোঁজের পর ইলিয়াস আলীর আদরের সন্তানরাও এখন নির্জীব। গতকাল সিলেট হাউসে দেখা হলে ইলিয়াস আলীর মেয়ে সাইয়ারা নাওয়ালকে (৯) বড় ভাইয়ের পাশে চুপচাপ বসে থাকতে দেখা যায়। মুখে কোনো কথা বলে না, মাথা নেড়ে সে কথার জবাব দেয়। ‘বাবাকে অনেক ভালোবাস তাই না সাইয়ারা?’ এ প্রশ্নে সাইয়ারা ‘হ্যাঁ-সূচক মাথা নাড়ে। সাইয়ারা এখনো সন্ধ্যা হলেই বাবার ফিরে আসার অপেক্ষায় বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকে। পরিবারের সদস্যদের বলে, ‘অনেক খেলনা নিয়ে বাবা ফিরে আসবে’। মানারাত স্কুলের ছাত্রী সাইয়ারার স্কুলে এখন ছুটি চলছে। ইলিয়াস আলীর বড় ছেলে আবরার এ বছর এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে জিপিএ-৫ পেয়েছেন। বাবার নিখোঁজ হওয়ার পরই আবারার এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। ইলিয়াস আলীর ইচ্ছা ছিল বড় ছেলে মেডিকেল বা আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করবে। বাবার ইচ্ছানুযায়ী আবরারও এখন আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এদিকে বাবার নিখোঁজ হওয়ায় ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে ইলিয়াস আলীর ছোট ছেলে লাবিব। লাবিব আগামী বছর রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষা দেবে। জানা যায়, লাবিব এখন কারও সঙ্গে কথা বলে না। সে একা থাকে। একাকী কি যেন চিন্তা করে। হয়তো বাবার কথাই ভাবে লাবিব। আবরার জানান, প্রতিবার ঈদ এলে পরিবারটি সিলেটে দাদি বাড়িতে যেত। কিন্তু এবার বাবার অনুপস্থিতিতে পরিবারটির মাঝে ঈদের আনন্দ বলে কিছু নেই। ইলিয়াস আলী ভাই আকসির আলী জানান, বাড়িতে সিসি ক্যামেরা লাগানোর কারণে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অনেক নেতা-কর্মী ও আত্দীয়স্বজন এখন আর সিলেট হাউসে আসেন না। তবে বিএনপি নেতাদের মধ্যে মির্জা আব্বাস, গায়েশ্বর চন্দ্র রায়, মিজানুর রহমান মিনুসহ অন্যান্যরা ইলিয়াস আলীর পরিবারের কাছে ফোন করে নিয়মিত তার খোঁজখবর রাখেন। বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়াও অন্য নেতাদের মাধ্যমে ইলিয়াস আলীর পরিবারের খোঁজখবর রাখেন।











