0

অলিম্পিকের উদ্বোধন

>>>>‘অবিরল রঙ্গের ধারার মধ্যে সুবর্ণ কঙ্কন পরা ফর্সা রমণীরা কতরকম আমোদে হেসেছে’। অলিম্পিক স্টেডিয়ামের বর্ণিল আয়োজনে ফর্সা রমণীরা কঙ্কন পরেছিল কিনা কে জানে। তবে রঙ্গের ধারা অবিরল ছিল। আমোদে হেসেছিল রমণীরা। সেই সঙ্গে হেসেছে সমগ্র বিশ্বই। ব্রিটেনের রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের বয়োবৃদ্ধ কণ্ঠ থেকে ৩০তম অলিম্পিকের ‘শুভ উদ্বোধন’ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই মুখরিত হয়ে উঠেছিল অলিম্পিক স্টেডিয়াম। মুখরিত হয়েছিল বিশ্বব্যাপী শত কোটি টিভি দর্শকও।

নাটকীয়তা ভরপুর এক অনুষ্ঠান। ডেভিড বেকহ্যাম নাকি স্টিভ রেডগ্রেভ? এই প্রশ্নের সমাধানটা ব্রিটিশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন শেষ পর্যন্তও শেষ করতে পারল না। তবে তারা যা করল, এর মধ্যে বৈচিত্র্য আছে বৈকি। সাত তরুণের হাতে দিয়ে দিল অলিম্পিক মশালের বিশাল ‘কড়াই’তে আগুন দেওয়ার দায়িত্ব। অলিম্পিক স্টেডিয়াম ঘুরে চূড়ান্ত অলিম্পিক মশালে আগুন দিলেন কালুম এয়ারলি, জর্ডান ডাকিট, ডিসরি হেনরি, কেটি কির্ক, ক্যামেরন ম্যাকার্থি, এইডান রিনল্ডস এবং অ্যাডেলি ট্রেসিরা। এই বিচিত্রতা অলিম্পিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের চার ঘণ্টার আয়োজনব্যাপীই ছিল।

শিশু শিল্পীদের দিয়ে শুরু। এরপর প্রতিটি ক্ষণেই বিশ্বকে চমকে দিয়েছেন লন্ডন অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের অস্কারজয়ী পরিচালক ড্যানি বয়েল। সেঙ্পিয়ারের সাজে মঞ্চে প্রবেশ করে চমকের সূচনা করেছেন তিনি নিজেই। ধারাবাহিকভাবে চলল ব্রিটিশ ঐতিহ্যের প্রদর্শনী। অলিম্পিক স্টেডিয়াম রাতের অন্ধকারেও হয়ে উঠল সবুজ। সেই সবুজ চত্বরে স্যাঙ্নীয় সংস্কৃতি থেকে শুরু করে নিজেদের সমগ্র অতীতটাই তুলে ধরেছে ব্রিটিশরা। ইতিহাস, কাব্য আর পবিত্রতা দিয়ে সাজানো হয়েছিল লন্ডন অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। ‘গ্রিন অ্যান্ড প্লিজান্ট’ প্রদর্শনীটি ছিল এবারের প্রধান আলোচনার বিষয়। সমগ্র অলিম্পিক স্টেডিয়ামের সবুজ আঙ্গিনায় ধারণা করা হয় অতীতের ব্রিটেনকে। বাংলাদেশি ড্যান্সার-কোরিওগ্রাফার আকরাম খানের জন্ম-মৃত্যুর নাটকীয় দৃশ্যটি ৫০ জন শিল্পী ফুটিয়ে তোলেন মঞ্চে। দর্শকদের মাঝে এক ধরনের নীরবতা নেমে আসে এই দৃশ্য দেখে। মাঝখানে কৌতুক অভিনেতা মিস্টার বিনের চরিত্র রোয়ান অ্যাটকিনসনের উপস্থিতি সবাইকে আনন্দের ভূবনে নিয়ে যায়। ড্যানি বয়েলের ‘আইলস অব ওয়ান্ডার’ জয় করে নিয়েছে অলিম্পিক স্টেডিয়ামের ৮০ হাজার দর্শকের মন। জয় করেছে বিশ্বব্যাপী শত কোটি দর্শকের মনও। অসাধারণ একটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উপহার দেওয়ার পরও কিছুটা সমালোচনা হচ্ছেই লন্ডনের। দীর্ঘ চার ঘণ্টা মানুষের আকর্ষণ ধরে রাখার মতো কিছু করতে পারেনি বলে অনেক মিডিয়াই লন্ডনের সমালোচনা করেছে। তবে সবমিলিয়ে লন্ডন নতুন কিছু উপহার দিয়েছে বলে সেই সমালোচনাটাও হারিয়ে যাচ্ছে প্রসংশার স্রোতে।

গ্রিক অ্যাথলেটদের প্রবেশের মাধ্যমে শুরু হয় অলিম্পিক প্যারেড। সবার শেষে স্টেডিয়ামে প্রবেশ করে ব্রিটিশ অ্যাথলেট দল। ২০৪টি দেশের প্রায় সাড়ে ১০ হাজার অ্যাথলেটদের সঙ্গে ছিল অফিশিয়ালরাও। বিশ্বের ১২০টি দেশের রাষ্ট্র নেতারা যোগ দিয়েছেন অনুষ্ঠানে। ছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ও। লন্ডন অলিম্পিক শুরু হয়ে গেছে। এবার অপেক্ষা। শেষ পর্যন্ত এখানে আধিপত্যটা ধরে রাখবে কে? বরাবরের মতো যুক্তরাষ্ট্র? ইাকি বেইজিংয়ের মতো এবারেও ব্যতিক্রম ঘটাবে চীন?

About the Author

মন্তব্য গ্রহণ বন্ধ আছে।

  • Bangla Radio 24

  • ফায়ারফক্সে স্বয়ংক্রীয় ক্রিকেট স্কোর দেখুন

  • বিজ্ঞাপন

  • সিলেট সংবাদ ডটকম

  • কোন বাঁধা মানবো না


  • ......................

  • ক্যালেন্ডার

  • 123 ...................... slide11
  • অনুসন্ধান-ক্যালেন্ডার

    জুলাই 2012
    শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহঃ শুক্র
    « জুন   অগা »
     123456
    78910111213
    14151617181920
    21222324252627
    28293031  
  • Recent Comments

  • বিজ্ঞাপনের জন্য বরাদ্দ। আমাদের ওয়েব সাইটে বিজ্ঞাপন দিতে চাইলে যোগাযোগ করুন। ইমেইল: sylhetsangbad24[@]gmail.com,

    >>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>> 222222221
  • নচিকেতা-বৃদ্ধাশ্রম