হুমায়ূন আহমেদের শৈশব কেটেছে সিলেটে
শাহ্ দিদার আলম নবেল : হুমায়ূন আহমেদের শৈশব কেটেছে সিলেটে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার শুরুও এখানে। বড় হয়েও বারবারই সিলেটে ফিরে এসেছেন হুমায়ূন আহমেদ। কখনো মৌলবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সৈনিক হিসেবে, কখনো হাওরে জ্যোৎস্না উপভোগের রোমান্টিকতায়, আবার কখনোবা শাহজালালের মাজার জিয়ারতের আধ্যাত্মিক আরাধনায়। নানারূপে, নানা কারণে-অকারণে তিনি এসেছেন শৈশবের স্মৃতিময় শহর সিলেটে। নিজের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থসহ বিভিন্ন লেখায় হুমায়ূন লিখেছিলেন, সিলেট তার প্রিয় শহর। এ শহরের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার নয়। অথচ সব সম্পর্ক ছিন্ন করে চলে গেলেন প্রবাদপ্রতিম কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ। সর্বশেষ ২০১১ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি সিলেট এসে মাজার জিয়ারত করে যান হুমায়ূন। কে জানতো এটাই তাঁর শেষ যাওয়া। আর কখনোই প্রিয় শহরে ফিরবেন না হুমায়ূন।
হুমায়ূন আহমেদের জন্ম হাওরপাড়ের জেলা নেত্রকোনায়। জন্মের পরপরই বাবার চাকরির সুবাদে সপরিবারে সিলেট চলে আসেন তারা। বাবা ফয়জুর রহমান ছিলেন সিলেট কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক। এরপর বিশ্বনাথ থানার ওসির দায়িত্বও পালন করেন তিনি। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হন ফয়জুর রহমান। নগরীর মীরাবাজারের একটি বাসায় থাকতেন তারা। মীরাবাজারস্থ কিশোরী মোহন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শুরু হয় হুমায়ূন আহমেদের। এই বিদ্যালয়েই প্রথম পাঠ নেন হুমায়ূন-অনুজ জাফর ইকবাল ও বোন সেপু। এই বিদ্যালয়ে পড়ার সময়ে হুমায়ূনের বন্ধু হয়ে ওঠেন শংকর। সিলেট আসলেই দেখা করতেন শংকরের সঙ্গে। শৈশব নিয়ে তাঁর আত্মজৈবনিক গ্রন্থের বড় অংশই জুড়ে আছে শংকরের নাম। কয়েক বছর পূর্বে এই শংকর মারা যান।
আওয়ামী লীগের গত শাসনামলে সিলেটে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি হলের নামকরণ ক’জন বিশিষ্ট ব্যক্তির নামে করার সিদ্ধান্তের বিরোধিতায় আন্দোলনে নামে মৌলবাদীগোষ্ঠী। এই বিশ্ববিদ্যালয়েই শিক্ষকতা করেন হুমায়ূন-অনুজ মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও তাঁর স্ত্রী ইয়াসমিন হক। সে সময় মৌলবাদীগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সিলেটে এসে অনশন করেন হুমায়ূন আহমেদ। তাই তিনি সিলেটবাসীর কাছে একজন লেখকমাত্রই নন- সহসংগ্রামী, মৌলবাদের বিরুদ্ধে আপসহীন নামও। হুমায়ূন আহমেদের বাবা ফয়জুর রহমানরা ছিলেন ৫ ভাই ১ বোন। সিলেটে অবস্থানকালে ছোট ভাই আজিজুর রহমান আহমেদকে এমসি কলেজে পড়ানোর জন্য সিলেট নিয়ে আসেন ফয়জুর রহমান। পরবর্তীতে বদলি হয়ে ফয়জুর রহমান সিলেট ছাড়লেও থেকে যান আজিজুর রহমান। সিলেট নগরীর হাওয়াপাড়ায় বাস করেন হুমায়ূনের চাচার পরিবার।











