সিলেট এমসি কলেজ ইস্যুতে ঢাকায় গোলটেবিল বৈঠক : দোষীদের বিচার করতে ব্যর্থ হলে সিলেটের চার মন্ত্রীকে পদত্যাগের আহবান
সিলেট সংবাদ : সিলেট এমসি কলেজ ছাত্রাবাস পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাকে পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হিসেবে উল্লেখ করে এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা দুষ্কৃতকারীদের বিচার দাবী এবং তাদের কাছ থেকে ক্ষতিপুরণ আদায় করে পুরোনো নির্মাণশৈলী ঠিক রেখে ঐতিহ্যবাহী এ ছাত্রাবাস পুণ:নির্মাণের দাবী জানান। এখনও দোষীরা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থাকায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং ব্যর্থতার দায়ভার নিয়ে সিলেটের চার মন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত বলে মন্তব্য করেন। ‘‘এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে আগুন: ঐতিহ্য ও শিক্ষা বিনাশী অপতৎপরতা এবং প্রশাসনের ভূমিকা’’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়। এমসি কলেজ প্রাক্তন ছাত্র পরিষদ, ঢাকা- এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান এবং এমসি কলেজের সাবেক ছাত্র অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রবের সভাপতিত্বে ও সঞ্চালনায় এতে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ইনাম আহমদ চৌধুরী। প্রধান আলোচক ছিলেন সুপ্রীম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবি ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল ব্যারিষ্টার আব্দুর রাজ্জাক। আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য মিসেস শাম্মী আখতার, ঢাকাস্থ সিলেট বিভাগ উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি এডভোকেট আবেদ রাজা, ভয়েস ফর হিউম্যান রাইটস-এর চেয়ারম্যান আবু সালেহ মো: ইয়াহইয়া, সাংবাদিক মিজানুর রহমান, এহসানুল হক জসীম, শাহিন আহমদ খান প্রমুখ। প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ইনাম আহমদ চৌধুরী বলেন, ছাত্রলীগ নামধারী সন্ত্রাসী কর্তৃক আগুন ধরিয়ে দেওয়ার কয়েক ঘন্টা পরও আগুন নিয়ন্ত্রণে না আনা এবং ছাত্রাবাসটি ক্যাম্পাস সংলগ্ন হওয়া সত্ত্বেও দুই ঘন্টা পর কলেজ প্রিন্সিপালের ঘটনাস্থলে উপস্থিতি প্রমাণ করে এ ঘটনা সরকারের পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রেরই অংশ। তিনি সিভিল প্রশাসনের পাশাপাশি প্রিন্সিপালকেও এ ঘটনার জন্য দায়ী করে তার পদত্যাগ দাবী করেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সময় শিক্ষামন্ত্রীর চোখের পানি ফেলাকে তিনি ব্যর্থতার পরিচায়ক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, দোষীদের বিচার নিশ্চিত করতে না পারলে ব্যর্থতার দায়ভার কাঁধে নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সহ সিলেটের চার মন্ত্রীকে অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত। ইনাম আহমদ চৌধুরী তার আলোচনার সময় তার কাছে সংরক্ষিত ছাত্রাবাসের পুড়ে যাওয়া ছাত্রদের বিভিন্ন ডকুমেন্টস, কাগজ-পত্রের অংশ বিশেষ দেখিয়ে তিনি এ ঘটনার ভয়াবহ তুলে ধরেন। তিনি বরেন, ‘‘বিভিন্ন দেশে বর্বরতা দেখেছি এবং শুনেছি। ছাত্রাবাস পুড়িয়ে দেওয়ার এরকম নজির কম। যারা এটা করেছে তারা একাত্তরের পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে।’’ ব্যারিষ্টার আব্দুর রাজ্জাক ঘটনার এতদিন পরও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় সরকার ও প্রশাসনের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কোন সরকারই শেষ সরকার নয়; এ সরকার এ ঘটনার বিচার না করলে একদিন অবশ্যই দোষীদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। তিনি আগের নির্মাণশৈলী ঠিক রেখে এ ছাত্রাবাস পুণ:নির্মাণের পাশাপশি একে ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ’ এর অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নিতে সরকারের প্রতি জোর দাবী জানান। সমাপনী বক্তব্যে ড. মোহাম্মদ আব্দুর রব বলেন, এমসি কলেজ শুধু সিলেটের একটি ঐতিহ্যবাহী কলেজ নয়; এটি বাংলাদেশের একটি প্রাচীনতম কলেজ এবং শিক্ষা বিস্তারে এ কলেজের অবদান অনেক বেশি। সুতরাং, যারা এ কলেজের ছাত্রাবাস পুড়িয়েছে তারা হায়েনা, হিংস্র। এদের শাস্তি হতে হবে। অন্যথায়, সিলেটবাসী কোনভাবেই বিষয়টি মেনে নেবেনা। তিনি এ ইস্যুতে দেশে-বিদেশে অবস্থানরত সিলেটবাসীকে সোচ্চার হওয়ার আহবান জানান। শাম্মী আখতার এমপি এমসি কলেজের বর্ণাঢ্য ইতিহাস বর্ণনা করে বলেন, ১৯৩৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রত্যেক সরকারের মন্ত্রীপরিষদে এ কলেজের ছাত্ররা প্রতিনিধিত্ব করে আসছে, তাই এ ঘটনাকে সহজে মেনে নেওয়া যায়না। দোষীরা এখনও গ্রেফতার না হওয়ার প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এবং তার সরকার এ ঘটনার দায় কোনভাবে এড়াতে পারেন না। বিজ্ঞপ্তি











