গাছ চুরি থেকে মাছ চুরি সব কিছুই করছে ওরা : সন্ত্রাসীদের অস্ত্র ও পেশীশক্তির কাছে জিম্মি টিলাগড়সহ পাঁচটি এলাকার কয়েক হাজার মানুষ : এলাকার সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা চান সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও শাস্তি
সিলেট সংবাদ : এমসি কলেজ ছাত্রাবাস পুড়ানো ঘটনার পর থেকেই সন্ত্রাসীদের আতংকে রয়েছেন টিলাগড় এলাকার সাধারণ জনগণ ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। ঘটনার পরপর টিলাগড় এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর করেছে সন্ত্রাসীরা। এখনো সন্ত্রাসীদের দুটি পক্ষ প্রতিদিন সশস্ত্র মহড়া দিচ্ছে টিলাগড় এলাকায়। রবিবার পর্যন্ত পাল্টাপাল্টি মামলাও হয়েছে। সন্ত্রাসীদের বেপরোয়া এসব কর্মকান্ডের প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন এলাকার সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা। এ অবস্থায় টিলাগড় এলাকাবাসীর আতংক কাটছে না। এলাকার যেকেউ যেকোন সময় বলি হতে পারেন সন্ত্রাসীদের কালো হাতের স্পর্শে। গত ৮ জুলাই রবিবার এমসি কলেজে ভর্তি বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবির’র মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনার এক পর্যায়ে সন্ত্রাসীরা শতবর্ষের ঐতিহ্যের স্মারক ঐতিহ্যবাহী এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে কলেজ-ছাত্রাবাসের ৫টি ব্লকের প্রায় দুইশ’ কক্ষ পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে যায়। আগুন ছড়িয়ে দেয়া হয় এক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে। ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার, ল্যাপটপ, বই, খাতা, আসবাবপত্র ও মূল্যবান সামগ্রী পুড়িয়ে দেয়ার পাশাপাশি লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনার পর ঐ রাতে টিলাগড় পয়েন্টে ছাত্রলীগের আজাদ, রনজিত ও বাবলা গ্র“পের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সন্ত্রাসীরা দেশী-বিদেশী অস্ত্রশস্ত্রসহ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষে আহত হয় কমপক্ষে ২০ জন। ভাংচুর ও লুটপাট করা হয় টিলাগড় বাজারের বেশ কিছু দোকানপাট।
সন্ত্রাসীদের এসব কর্মকান্ডে আতংকিত হয়ে পড়েন স্থানীয় ব্যবসায়ী সহ ও সাধারণ মানুষ। এরপর এলাকায় সন্ত্রাসীদের অস্ত্রের মহড়া চলতে থাকে। সন্ত্রাসীদের এসব কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠছেন সাধারণ লোকজন, স্থানীয় ব্যবসায়ীসহ সিলেটের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন। ছাত্রাবাস পুড়ানোর ঘটনায় গত ১২ জুলাই অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত ও শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ পুড়ে যাওয়া ছাত্রাবাস পরিদর্শনে আসেন। ছাত্রাবাস পুড়ানোর ঘটনায় তারা গভীর দুঃখ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তারা বলেন, সন্ত্রাসী যে দলের হোক, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। মন্ত্রীদের এসব ঘোষণার পরও ছাত্রাবাস পুড়ানোকে কেন্দ্র করে টিলাগড় এলাকায় থামছে না সন্ত্রাসীদের মহড়া। আর এতে করে টিলাগড়, কল্যাণপুর, শাপলাবাগ, বালুচর ও শিবগঞ্জ এলাকার কয়েক হাজার মানুষ ও ব্যবসায়ী রয়েছেন চরম আতংকের মধ্যে। অথচ মেজরটিলা এলাকায় রয়েছে র্যাব-৯ এর কার্যালয়। র্যাব-পুলিশ থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে টিলাগড় এলাকার চিহ্নিত এসব সন্ত্রাসীদের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড থামছে না। স্থানীয় লোকজন ও ব্যবসায়ীদের অনেকেই অভিযোগ করে বলেছেন, জনপ্রতিনিধি ও ছাত্র সংগঠনের নেতা পরিচয়ে হাতেগোণা কয়েকজন ব্যক্তি ও স্থানীয় প্রভাবশালী দু’একটি পরিবার এসব সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের মদদ দিচ্ছে। মাঝে মধ্যে এরা সরকারি দলের সাইনবোর্ডকেও কাজে লাগিয়েও এসব কর্মকান্ড করছে। টিলাগড় এলাকার বাসিন্দা ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা তাদের কাছে অনেকটা জিম্মি দশায় রয়েছেন। একই অবস্থায় রয়েছেন এমসি ও সরকারি কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। প্রায় সময় তারা দুটি কলেজ ক্যাম্পাসে নিজেরাই সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করে।
দীর্ঘদিন ধরে এসব সন্ত্রাসীরা এমসি ও সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে ঢুকে সাধারণ শিক্ষার্থীসহ শিক্ষকদের সাথে অসদাচরণের একাধিক অভিযোগও পাওয়া গেছে। ইতিপূর্বে তারা টিলাগড় এলাকার আলুরতলে ছাগল খামার থেকে ছাগল চুরি, এমসি কলেজের পুকুর থেকে মাছ চুরি সহ ক্যাম্পাস থেকে গাছ চুরি করে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটিয়েছে।
গত বছর বন্দরবাজারস্থ একটি ব্যাংকেও তারা হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করে। এ নিয়ে কর্তৃপক্ষ, সিলেটের ব্যবসায়ী মহল ও চেম্বার অব কমার্স ফুঁসে উঠে। সর্বশেষে তারা ধ্বংসযজ্ঞ চালায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে। পাশাপাশি তারা টিলাগড় সহ আশপাশের কয়েকটি এলাকার মানুষকে দীর্ঘদিন থেকে জিম্মি করে রেখেছে। এ অবস্থায় ঐ এলাকার সাধারণ মানুষ সহ ব্যবসায়ীরা এসব চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।











