শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের বৃহত্তর ভূমিকা চান বান কি মুন
>>>>শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি সদস্যদের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন। একই সাথে সিরিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অব্যাহত সংকট নিরসনেও বাংলাদেশের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি। নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে আমিরা হকের সংবর্ধনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। আমিরা হক প্রথম বাংলাদেশি নারী হিসেবে জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল পদের গৌরব অর্জন করলেন। গত এপ্রিলে তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেয়া হয়। বান কি মুন বলেন, বাংলাদেশ নারীর ক্ষমতায়ন, নারী উন্নয়ন, বেকারত্ব নিরসন, কর্মসংস্থান, গ্রাম উন্নয়নসহ সামগ্রিক বিবেচনায় এগিয়ে যাচ্ছে। আমিরা হকের জাতিসংঘে আন্ডার সেক্রেটারি পদে নিয়োগ বাংলাদেশের আরেকটি সাফল্যের স্বাক্ষর বহন করছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ দ্রুত গতিতে এগিযয়ে যাচ্ছে। শান্তি মিশনে বাংলাদেশি সৈন্যদের বিশেষ সাফল্য রয়েছে। বাংলাদেশ ভ্রমণের সময় রাজেন্দ্রপুর পিস বিল্ডিং ইনস্টিটিউটের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আমাকে মুগ্ধ করেছে। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধির প্রথম প্রেস সচিব মামুন-অর-রশিদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জাতিসংঘে আমিরা হকের ৩৫ বছরের বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের কথা তুলে ধরেন বাংলাদেশ মিশনের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. এ কে আব্দুল মোমেন। স্বাগত বক্তব্যে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দ্বিতীয় মেয়াদে নারী উন্নয়ন ও নারীর ক্ষমতায়নে বিভিন্ন দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন। আব্দুল মোমেন বলেন, প্রান্তিক জনপদে তৃণমূল নারীর ক্ষমতায়ন থেকে শুরু করে বর্তমান সরকারের মন্ত্রিসভায় পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা, কৃষি ও মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে নারীদের হাতে। যা নারীর ক্ষমতায়নের উজ্জ্বল স্বাক্ষর। বর্তমান জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উদ্যোগী ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব মোকাবিলা, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, শিক্ষার প্রসার, নারী উন্নয়ন, যুব কর্মসংস্থান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, নিরস্ত্রীকরণ ও সর্বোপরি লাগসই উন্নয়নে জাতিসংঘ কাজ করে চলেছে।এদিকে, আমিরা হক বর্তমান সরকারের গৃহীত সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচি, কর্মসংস্থানের জন্য ন্যাশনাল গ্যারান্টি সার্ভিস স্কিমের কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, তিনি আজ প্রথম বাংলাদেশি নারী হিসেবে জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল নিযুক্ত হয়েছেন। তিনি এ বিষয়টিকে বাংলাদেশি নারী ও গোটা জাতির বিজয় হিসেবে দেখছেন।











