সাইনবোর্ডে এলাকার নাম নিয়ে কুশিঘাট, হবিনন্দী ও গঙ্গানগর এলাকাবাসীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ : সাংবাদিকসহ অর্ধশতাধিক আহত
>>>>নামকরণকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ সুরমায় দু’গ্রামবাসীর সংঘর্ষে দৈনিক কাজিরবাজার পত্রিকার ফটো সাংবাদিক সহ প্রায় অর্ধশতাধিক আহত হয়েছে । গতকাল রাত ৯টার দিকে ভয়াবহ এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। জানা যায়, প্রাণ কোম্পানী তাদের পণ্যের প্রচারের জন্য সাইন বোর্ড লাগানোর অংশ হিসাবে প্রাণ মিল্ক ক্যান্ডির সাইনবোর্ড হবিনন্দী এলাকার একটি দোকানে লাগায়। সাইনবোর্ডের ঠিকানা হিসাবে হবিনন্দী, কুশিঘাট লেখা হলে এর প্রতিবাদ জানায় হবিনন্দী এলাকার লোকজন। তারা বলে সাইনবোর্ডে শুধু হবিনন্দী হবে এখানে কুশিঘাট কেন লেখা হয়েছে। কুশিঘাট এলাকাবাসী। এ নিয়ে গত কয়েক দিন থেকে দু’এলাকার লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে গতকাল রাত ৯টার দিকে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষে হবিনন্দী এলাকাবাসীর পক্ষে যোগ দেয় গঙ্গানগর এলাকাবাসী। এ অবস্থায় সংঘর্ষ ভয়াবহ রূপ নেয়। উভয়পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একে অন্যের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকার সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এদের মধ্যে চিত্র সাংবাদিক ও বিভিন্ন চ্যানেলের ক্যামেরার পার্সনরা গঙ্গানগর এলাকায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে গেলে কুশিঘাটের লোকজন তাদের উপরও হামলা চালায়। হামলায় আহত হন দৈনিক কাজিরবাজার পত্রিকার স্টাফ ফটোগ্রাফার রেজা রুবেল, দৈনিক উত্তরপূর্বের ফটো সাংবাদিক নুরুল ইসলাম, সিটি কর্পোরেশনের ২৭নং ওয়ার্ডের যুবলীগের সভাপতি গুলজার আহমদ জগলু (৩৫), ২৭নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আজম খান (৪৫), কুশিঘাটের জাহাঙ্গীর আলম (৩২), কনষ্টেবল জয়নাল আবেদীন (৩৩), কুশিঘাটের স্বপন আহমদ (২৬), কুশিঘাটের পান্না (৩০), হবিনন্দীর রুহেল আহমদ সাদ্দাম (২০) এবং শানুর আলী (৪০)। এদের মধ্যে দৈনিক কাজিরবাজার পত্রিকার স্টাফ ফটোগ্রাফার রেজা রুবেল ঘটনাস্থলেই সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পড়ে ছিলেন। পরে সহকর্মী সাংবাদিকরা তাকে প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকা কাঁধে করে নিয়ে এসে একটি সিএনজিযোগে প্রথমে দক্ষিণ সুরমার নর্থ ইষ্ট হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে পরে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। রাত ১টার দিকে তার জ্ঞান ফিরে আসে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তিনি ওসমানী হাসপাতালের ৩য় তলার ৯নং ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন। তাদেরকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যান্য আহতরা স্থানীয় চিকিৎসা কেন্দ্র ও ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। তাদের নাম পরিচয় তাৎক্ষণিক জানা যায়নি। পুলিশ এ ঘটনায় ৪ জনকে এ পর্যন্ত গ্রেফতার করেছে। সংঘর্ষ চলাকালে কুশিঘাটের লোকজন ৮/১০টি দোকানে ব্যাপক হারে লুটপাট, হামলা ও ভাংচুর চালায়। এক পর্যায়ে তারা বাসাবাড়ীতেও হামলার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে গেলেও তারা দীর্ঘক্ষণ নীরব দর্শকের মতো দাঁড়িয়ে ছিল।
২৭নং ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি আহত গুলজার আহমদ অভিযোগ করেছেন পুলিশ সংঘর্ষ থামানোর বদলে ঐ সময় লোকজনকে পার্শ্ববর্তী একটি মসজিদে ঢুকিয়ে লাঠিচার্জ করে এবং টাকা-পয়সা কেড়ে নেয়।
পরে র্যাব ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সিটি মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান সহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছিলেন বলে জানা গেছে।
এদিকে রাতেই মেয়র কামরান ওসমানী হাসপাতালে আহত ফটো সাংবাদিকসহ অন্যান্যদের দেখতে যান এবং তাদের চিকিৎসার খোঁজ খবর নেন।











