নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালন করতে সাংবাদিকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহবান
সিলেট সংবাদ : গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল রোববার সকালে তার কার্যালয়ে নিহত সাংবাদিকদের পরিবার এবং অসুস্থ ও দুস্থ সাংবাদিকদের সহায়তা ভাতার চেক দেয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে নিহত ১৩ সাংবাদিকের পরিবারের সদস্যদের প্রত্যেককে দুই লাখ টাকার এবং অসুস্থ ও দুস্থ ৪৮ জন সাংবাদিকের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকার সহায়তা চেক দেয়া হয়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী নিহত সাংবাদিকদের পরিবারের সদস্যদের সাথে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের সন্তানদের মাতৃস্নেহে কাছে টেনে নেন। প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে সাংবাদিকদের সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে। তবে সে সমালোচনা অবশ্যই গঠনমূলক হতে হবে। দেশের বৃহত্তর স্বার্থে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করা হলে দেশ এগিয়ে যাবে। তিনি বলেন, সাংবাদিকতা একটি মহৎ পেশা এবং সমাজ, দেশ ও জনগণের প্রতি সাংবাদিকদের বিরাট দায়িত্ব রয়েছে। সুতরাং তাদের এমনভাবে খবর প্রকাশ করা উচিত নয় যাতে দেশ ও দেশের ভবিষ্যত প্রজন্মের মূল্য দিতে হয়। কারণ বিকৃত ও ভুল তথ্যের কারণে যে ক্ষতি হয় তা আর পূরণ হয় না। সাংবাদিকরা বিষয়টি মাথায় রেখে খবর প্রকাশ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।এসময় গণমাধ্যমের জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়নের ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সহায়তার জন্য আমি সাংবাদিকদের ব্যক্তিগতভাবে ধন্যবাদ জানাই। কারণ সংস্কৃতিসেবীদের পাশাপাশি তারাও এ ব্যাপারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বর্তমান সরকার গণমাধ্যমকে সমাজের দর্পণ হিসেবে দেখতে চায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের গণমাধ্যম এখন সর্বোচ্চ স্বাধীনতা ভোগ করছে। তার সরকার গণমাধ্যমকে আরো শক্তিশালী দেখতে চায়, তবে স্বাধীনতার সাথে অবশ্যই দায়িত্বশীলতাও থাকতে হবে। শেখ হাসিনা বলেন, ইতিপূর্বে আওয়ামী লীগ সরকারই প্রথম দেশে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের অনুমোদন দেয়। এবারও অনেক বেসরকারি টিভি চ্যানেল, এফএম রেডিও এবং কমিউনিটি রেডিও’র অনুমোদন দেয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় বা বিরোধী দলে যেখানেই থাকুক, সব সময়ই সাংবাদিকদের সাহায্য করার চেষ্টা করে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকদের কল্যাণে আওয়ামী লীগ সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। এসময় অপরাধ আইন সংশোধন করে সাংবাদিকদের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে হয়রানি বন্ধ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ন্যায় বিচার নিশ্চিত করার স্বার্থে সাংবাদিক হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন। এসময় তিনি সাংবাদিক হত্যাকারীদের আইনের আওতায় আনতে এবং তদন্ত কাজ আরো ত্বরান্বিত করতে সহযোগিতা করার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান। রাজধানীর বাইরে অবস্থানরত দুস্থ সাংবাদিকদের সম্পর্কে তাকে জানাতে সাংবাদিক নেতাদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রী থাকি বা না থাকি এসব সাংবাদিকদের ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া চালিয়ে যেতে আমার সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
এসময় সাংবাদিকদের কল্যাণে অষ্টম ওয়েজ বোর্ড গঠনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের কল্যাণে ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করা হবে। এর ফলে সরকার দুস্থ সাংবাদিকদের দ্রুত সাহায্য ও সহযোগিতা করতে পারবে।অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ, তথ্য সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন ও ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি ইকবাল সোবহান চৌধুরী ছাড়াও অন্যদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব শেখ মো. ওয়াহিদউজ জামান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব মোল্লা ওয়াহেদুজ্জামান, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ, বিশেষ সহকারি (মিডিয়া) মাহবুবুল হক শাকিল, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক ইহসানুল করিম এবং বিএফইউজে, ডিইউজে ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।











