ইউনিপেটুইউ’র ৮ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা
>>>>বহুল আলোচিত এমএলএম কোম্পানি ইউনিপেটুইউ, বাংলাদেশের চেয়ারম্যান শহীদুজ্জামান শাহীন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুনতাসির হোসেন ইমন, জেনারেল ম্যানেজার ও পরিচালক জামশেদুর রহমান জামশেদসহ ৮ শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রায় ১৪ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ইউনিপেটুইউ’র প্রতারণার ফাঁদে পড়ে সর্বস্বান্ত হওয়া গ্রাহক নগরীর তাঁতীপাড়া এলাকার ৩৫ নম্বর বাসার বাসিন্দা গেলাম সারওয়ার বাদী হয়ে গতকাল বুধবার সিলেট চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলা দায়ের করেন।
বিচারক আবু সৈয়দ মোঃ দিলজার হোসেন মামলাটি গ্রহণ করে তদন্তের জন্য কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার অন্য আসামীরা হলেন, ইউনিপেটুইউ বাংলাদেশের ডিএমডি আবু তাহের, উপদেষ্টা মঞ্জুর এহসান চৌধুরী ওরফে মিঠু, পরিচালক আব্দুল জলিল, পরিচালক মেজর (অব.) এম এ মুকিত এবং কোম্পানির এজেন্ট গোলাপগঞ্জ উপজেলার লক্ষণাবন্দ এলাকার আব্দুল জলিলের ছেলে আব্দুল বাছিত নাবিল।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, ১০ মাসে দ্বিগুণ লাভের লোভনীয় অফার দিয়ে আসামীরা বাদী গোলাম সারওয়ার ও মামলার ৮ জন সাক্ষীর কাছ থেকে ২০১০ সালের ২ মে থেকে ২০১২ সালের ৫ মে পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে কিস্তিতে মোট ৪ কোটি ২৬ লাখ ৯৬ হাজার ৭শ’ টাকা হাতিয়ে নেয়।
পরে তারা আসামীদের কাছে বিনিয়োগকৃত টাকার লভ্যাংশ ৯ কোটি ৩৭ লাখ ৮৩ হাজার ৬শ’ ৪০ টাকাসহ মোট মূলধন ফেরত দেওয়ার দাবি জানান।
কিন্তু অদ্যাবধি বাদীসহ অন্য সাক্ষীদের লাভ তো দূরের কথা, আসল টাকা পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। বিনিয়োগকৃত টাকা ফেরত চাইলে বিভিন্ন ধরণের ছল-চাতুরি করে তাকে হয়রানি করা হয়। এমনকি অজ্ঞাত ফোন নাম্বার থেকে বাদীকে বিভিন্ন সময় হুমকি প্রদান করা হয়।
এতে বাধ্য হয়ে বিনিয়োগকৃত মূলধন ও লভ্যাংশসহ সর্বমোট ১৩ কোটি ৬৪ লাখ ৮০ হাজার ৩শ’ ৪০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে তা ফেরত দেওয়ার জন্য আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন বাদী গোলাম সারওয়ার।
উল্লেখ্য, এমএলএম কোম্পানি ইউনিপেটুইউ’র প্রতারণার শিকার গ্রাহকদের দেশের বিভিন্ন আদালতে দায়ের করা অসংখ্য মামলায় কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুনতাসির হোসেন, জেনারেল ম্যানেজার ও পরিচালক জামশেদুর রহমান জামশেদ এবং পরিচালক মেজর (অব.) এম এ মুকিত বর্তমানে কারাগারে আছেন।











