হজ করতে এবার খরচ হবে ৩ লাখ ৩ হাজার টাকা
সিলেট সংবাদ : এবার সরকারিভাবে হজ পালন করতে ৩ লাখ ৩ হাজার টাকা খরচ হবে। ইতোমধ্যে হজ প্যাকেজ চূড়ান্ত করে মন্ত্রিসভা বৈঠকে অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে। আগামী ১৯ মার্চ সোমবার মন্ত্রিসভা বৈঠকে হজ প্যাকেজ অনুমোদনের জন্য উঠবে। মন্ত্রিসভায় পাঠানো সার-সংক্ষেপ অনুযায়ী এবার সরকারিভাবে হজ পালন করতে ৩ লাখ ৩ হাজার টাকা খরচ হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এ অনুযায়ী গত বছরের তুলনায় এবার খরচ বাড়ছে প্রায় ৪৪ হাজার টাকা। গত বছর ঘোষিত হজ প্যাকেজ অনুযায়ী হজযাত্রী প্রতি খরচ ধরা হয়েছিলো ২ লাখ ৫৯ হাজার ৪২ টাকা। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় যেতে ইচ্ছুক হজ যাত্রীদের কাছ থেকে এজেন্সিগুলো সরকারি প্যাকেজে কম অর্থ নিতে পারবে না।
এছাড়া সকল হজ যাত্রীদের সরকার নির্ধারিত হিসাবে টাকা জমা দেয়ার উদ্যোগের প্রেক্ষিতে হাব (হজ এজেন্সিস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) এর বিরোধিতা করে জানিয়েছে, এজেন্সিগুলোর নিজস্ব হিসাবে হজ যাত্রীরা টাকা জমা দেবে। এ অবস্থায় দুপক্ষের মতামতই মন্ত্রিসভায় পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রিসভায় আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি চূড়ান্ত হবে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
জানা গেছে, ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পাঠানো প্যাকেজে এবার বিমান ভাড়া আগের বছরের তুলনায় ১০ ডলার বাড়ানো হয়েছে। গত বছর বিমানভাড়া ছিলো এক হাজার ৪৬৫ মার্কিন ডলার। মোয়াল্লেম ফি ৫০ রিয়াল বাড়ানো হয়েছে। গত বছর মোয়াল্লেম ফি ছিলো এক হাজার ৮৯ রিয়াল। মোয়াল্লেম ও মোয়াচ্ছাছাকে প্রদেয় অতিরিক্ত সার্ভিস ফিও বাড়ানো হয়েছে ৫০ রিয়াল। গত বছর এ চার্জ ছিলো ৫৫০ রিয়াল। এছাড়া ঝমঝমের পানি ও খাবারের জন্য ২০ রিয়াল করে মোট ৪০ রিয়াদ যোগ করা হয়েছে এবারের হজ প্যাকেজে।
জানা গেছে, হাজিরা জমজম কূপের পানি কিনে প্রতারিত হন। এ প্রতারণা রোধে হজ প্যাকেজে পানি কেনার জন্য আলাদা টাকা নেয়া হবে। এবার সৌদি কর্তৃপক্ষ ১০ লিটার জমজমের পানি বোতলজাত করে সরবরাহ করবে। খাবারের ভোগান্তি লাঘবেও খাবার সরবরাহের দায়িত্ব নিয়েছে সরকার।
হজ অফিসার বজলুল হক বিশ্বাস বলেন, আমরা হজ প্যাকেজ সংক্রান্ত সার-সংক্ষেপ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠিয়েছি। মন্ত্রিসভা বৈঠকে হজ প্যাকেজ চূড়ান্ত হবে।
চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে এক লাখ ২০ হাজার হজযাত্রী সৌদি আরব যেতে পারবেন। এরমধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১০ হাজার ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এক লাখ ১০ হাজার হজে যেতে পারবেন। এজন্য গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। গত বছর এক লাখ ৫ হাজার ৬০৮ জন বাংলাদেশি হজ পালনের সুযোগ পেয়েছিলেন।
প্রতারণা ও হয়রানি রোধে এবার হজে যেতে ইচ্ছুক প্রত্যেককের টাকা জমা নিয়ে একটি বিশেষ পদক্ষেপের কথা জানায় সরকার। এ পদক্ষেপ অনুযায়ী সরকার নির্ধারিত বিভিন্ন ব্যাংকে বেসরকারি হজযাত্রীরাও পুরো টাকা একবারে জমা দেবে। এরপর ওই ব্যাংকগুলো ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ হিসাবে সকল টাকা পাঠাবে। পরবর্তীতে যে এজেন্সির মাধ্যমে সে হজে যাবেন সেই এজেন্সির অনুকূলে সরকার টাকা স্থানান্তর করবে। এতে হজযাত্রী ও এজেন্সিগুলোর মধ্যে দালাল প্রবেশ বন্ধ হবে। এজেন্সিগুলোও হজযাত্রীদের সাথে প্রতারণা করতে পারবে না বলে মনে করছেন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।
এ উদ্যোগের কথা জানিয়ে মতামত নেয়ার জন্য হাবকে চিঠিও দেয় ধর্ম মন্ত্রণালয়। কিন্তু হাব সদস্যরা সরকারের এ উদ্যোগের বিরোধিতা করছে। তারা এজেন্সিগুলোর অনুকূলে ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে টাকা জমা নেয়া যেতে পারে বলে মত রেখেছে। হাব এ অর্থ তদারকি করবে বলেও জানায় তারা। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, দু’পক্ষের মতামতই মন্ত্রিপরিষদে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রিসভায়ই এখন এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।
এ বিষয়ে হাব সভাপতি জামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, এজেন্সির নিজস্ব হিসাবে টাকা জমা হবে। হাব এটা মনিটরিং করবে। এজেন্টদের জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার বিষয়টি আমরা নিশ্চিত করবো। যারা নীতিমালা ভাঙ্গবে তাদের শাস্তির মুখোমুখি করা হবে। এসব বিষয় অন্তর্ভূক্ত করে আমরা ধর্ম মন্ত্রণালয়ে মতামত পাঠিয়েছি।











