মিডিয়া/ সংবাদ কর্মীদের মূল্যায়ন প্রসঙ্গে <> লেখক ও গবেষক- মোঃ নূরুল ইসলাম মজুমদার <>
সংবাদ সম্পর্কে কিছু আলোকপাত করতে চাই, যেমন NEWS শব্দটির চারটি প্রধান দিক N-NORTH, E-EAST,-W-WEST,S-SOUTH এর সংক্ষিপ্ত রূপ চারিদিক থেকে যা আসে তা মিলেই হয় NEWS বা সংবাদ। সেই আদিকাল থেকেই সংবাদ আদান-প্রদান, সংবাদ প্রচার নিয়ে কৌতুহলের অভাব ছিলনা। মানুষ সামাজিক জীব, সমাজের কিছু বরেণ্য, ত্যাগী ও মানবদরদী ব্যক্তিবর্গের অবদানে গড়ে উঠেছে জনপথ ও রাষ্ট্র এবং নতুন নতুন আবিষ্কার। আমরা যারা তাদের অবদানের সূফল ভোগকরছি, তাদেরকে কি আমরা কিছু দিতে পেরেছি? গুটি কয়েকজন মানুষ ছাড়া অধিকাংশদেরকে আমরা ভূলে গিয়েছি। যারা মানবকল্যাণ তথা জীব জগতের কল্যাণে, তাদের জীবনকে উৎসর্গ করেছেন, তারা হলেন আবিষ্কারক ও মিডিয়া/সংবাদপত্র কর্মী। সমাজে আমরা নানা পেশায় নিয়োজিত। সরকারী, আধাসরকারী, স্বায়ত্ব শাসিত প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ীরা ব্যবসার মাধ্যমে মাস শেষে মোটা অংকের বেতন গুণে থাকেন। কৃষকেরা কৃষির আবাদ করে, শ্রমিকেরা শ্রমের বিনিময়ে পারিশ্রমিক নিচ্ছেন এবং পরিবার পরিজন নিয়ে সংসার চালাচ্ছেন কিন্তু আমরা কি কখনও ভেবে দেখেছি? প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং সংবাদপত্র সমুহের মিডিয়া কর্মীরা বন্যা, মহামারি, জলোচ্ছাস, খরা, অগ্নিসংযোগ, ভূমিকম্প, দুর্ঘটনা, চুরি, ডাকাতি, খুন, রাহাজানি, অফিস-আদালত, মানুষের সূখ-দু:খ, হাসি-কান্না ও সমাজের বিত্তবান ও জনপ্রতিনিধি নেতা-নেতৃদের সমাজসেবামূলক কার্যক্রমে সংবাদ সংগ্রহ, শিল্পীদের বিনোদন মূলক অনুষ্ঠান, ক্রীড়া ক্ষেত্রে খেলোয়াড়দের নৈপূন্য, ধর্মীয় অনুষ্ঠানে মৌলনা সাহেবদের সু-ললিত কণ্ঠের ওয়াজ, মন্দিরে মন্দিরে পুরোহিতদের ধর্মীয় আলোচনা অর্থাৎ সকল স্থানেই উপস্থিত থাকেন মিডিয়া/সংবাদপত্র কর্মীগন। সংবাদ সংগ্রহ এবং সংবাদ প্রচার করতে গিয়ে অনেক মিডিয়া/সংবাদপত্র কর্মীগন নিহত, আহত, পঙ্গু, নির্যাতিত, লাঞ্চিত এবং অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হযেছেন এবং হচ্ছেন। তাদের জন্য আমরা কি কোন প্রতিকার মূলক ব্যবস্থা গ্রহন করতে পেরেছি? কৃষক, শ্রমিক এবং পেশাজীবীরা সকলেই মাস শেষে বেতন গুণেন, কিন্তু বিশেষ করে মফসল এলাকার সংবাদ কর্মীগণ যারা দিন-রাত ২৪ ঘন্টা জীবনের ঝুকি নিয়ে সমাজের কল্যাণে নিয়োজিত থাকেন, তাদরে বেতন কোথায়? একবার কি আমরা ভেবে দেখেছি? যারা মিডিয়া/সংবাদপত্র কর্মী, সমাজের কল্যাণ সাধন করা যাদের নেশা ও ব্রত তারা আদর্শ নিয়েই বেচে আছেন, এ রূপ কার্যক্রমের ফলে মিডিয়া/সংবাদপত্র কর্মীদের বিশেষকরে মফস্বল এলাকার অনেকের সংসারে অর্থনৈতিক টানা-পোড়ানো লেগেই থাকে, তারপরও তাদের কার্যক্রম থেমে নেই, যেখানে সমস্যা, সেখানেই সাংবাদিক, যেখানে অন্যায়, অবিচার সেখানেই সাংবাদিক, যেখানে দু:খ-বেদনা সেখানেই সাংবাদিক, সমাজ বিনির্মানে সাংবাদিক, সমাজে কিংবা রাষ্ট্রে এমন কোন সেক্টর নেই যে মিডিয়া/সংবাদ কর্মীবৃন্দের উপস্থিতি বা ভূমিকা নেই, তারা রাষ্ট্র এবং দেশের প্রতিটি নাগরিকের কল্যানে কাজ করে যাচ্ছেন এর বিনিময়ে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে” তাদের কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য, কিছু বাস্তবমূখী পদক্ষেপ গ্রহন করা আবশ্যক। পৃথিবীর বুকে বাঙ্গালী একটি শ্রেষ্ঠ জাতি এর অনেক প্রমান রয়েছে। ২১ শে ফেব্র“য়ারী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের কারণে, ক্রীড়াঙ্গন তথা ক্রিকেট খেলার মাধ্রমে, দারিদ্র বিমোচনে, গ্রামীন ব্যাংক ও ব্রাকসহ এনজিও সমুহের কার্যক্রম, বাস্তবধর্মী উদাহরণ। এসব কারণে পৃথিবীর ৭০০ কোটি মানুষ, বাংলাদেশের নাম অবগত আছেন। এবার আমরা মিডিয়া/সংবাদপত্র কর্মীদের কল্যাণে কিছু বাস্তবমূখী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, পৃথিবীতে ১ম স্থান অধিকার করতে চাই।
১. নং পদক্ষেপ : একবিংশ শতাব্দীর এ আধুনিক যুগে বিভিন্ন সেক্টরে উন্নয়নের জন্য, “সরকার” বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে বিভিন্ন নামে ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত করে আসছে। মিডিয়া/সংবাদপত্র কর্মীদের জন্য মিডিয়া কর্মী কল্যাণ ব্যাংক/মিডিয়া কর্মী ব্যাংক/মিডিয়া ব্যাংক, যেকোন একটি নামে ব্যাংক স্থাপন করে, এর লভ্যাংশ দিয়ে মিডিয়া/সংবাদপত্র কর্মীদের কল্যাণ নিশ্চিত করা যেতে পারে যেমন: সম্মানীভাতা প্রদান, তাদের সন্তানদের লেখা-পড়ার জন্য অনুদান প্রদান, দাফন-কাপনের জন্য অনুদান প্রদান, পেনশন স্কীম চালু, চিকিৎসার জন্য অনুদানের ব্যবস্থা এবং জার্নালিজম ইনস্টিটিউট স্থাপন। প্রাথমিক অবস্থায় মিডিয়া ব্যাংকের তহবিল সরকারকেই ব্যবস্থা করতে হবে। শুরুতেই ৬৪ জেলায় এবং পর্যায়ক্রমে প্রতিটি উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে এ ব্যাংকের শাখা সম্প্রসারিত হবে।
২ য় পদক্ষেপ : যেহেতু শেয়ার মার্কেটে আয় বেশী, তাই শেয়ার মার্কেটের ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য মিডিয়া/সংবাদপত্র কর্মীদের জন্য, মিডিয়া শেয়ার নামে সরকার যদি বড় অঙ্কের টাকার একটি তহবিল প্রদান করেন, তবে মিডিয়া/সংবাদপত্র কর্মী ভাইদের কল্যাণ নিশ্চিত করা সহজ হবে।
৩ নং পদক্ষেপ : আমরা দেখতে পাই, আমাদের দেশে UNDP-UNICEF-UNESCOসহ বিভিন্ন নামে আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং অসংখ্য NGO কাজ করছে, অথচ মিডিয়া/সংবাদপত্র কর্মীদের কল্যাণে কোন সংস্থারই কোন কর্মসূচি নেই, থাকলেও তা একেবারেই সীমিত মিডিয়া/সংবাদপত্র কর্মীদের কল্যাণার্থে সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি গ্রহণ আবশ্যক। আমি পৃথিবীর সকল মিডিয়া/সংবাদপত্র কর্মীদের কল্যাণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নিবেদন করতে চাই যে, জাতীসংঘ সনদে মিডিয়া/সংবাদপত্র কর্মীদের ভূমিকা এবং তাদের কল্যাণে আন্তর্জাতিক সংস্থা গড়ে তুলার জন্য জাতিসংঘের মাননীয়, মহা সচীব বান কি মুন মহোদয়ের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। মিডিয়া/সংবাদপত্র কর্মীদের কল্যাণে কিছু বাস্তবমূখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা গেলে রাষ্ট্রের বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ও সরকারের, নীতিমালা বাস্তবায়ন ও পরিচালনায়, মিডিয়া/সংবাদপত্র কর্মীরা আরো অনেক বেশী অবদান রাখতে সক্ষম হবেন।
৪ নং পদক্ষেপ : পৃথিবীর ১৯৩টি স্বাধীন দেশের মিডিয়া/সংবাদপত্র কর্মীদেরকে নিয়ে বাংলাদেশে একটি আন্তর্জাতিক মহাসম্মেলনের আয়োজনের পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য বিশেষজ্ঞবৃন্দের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
৫ নং পদক্ষেপ : মিডিয়া/সংবাদপত্র কর্মীদের বিশেষ বিশেষ অবদানের জন্য মিডিয়া পদক চালু করা গেলে মিয়ায়/সংবাদপত্র কর্মীরা উৎসাহ ও উদ্দীপনার সাথে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচারে বিশেষ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
৬ নং পদক্ষেপ: মিডিয়া কর্মী/ মিডিয়া ব্যাংকে নিয়োগের সময় মিডিয়া কর্মীদের যোগ্য সন্তানেরা যাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চাকুরী করার সুযোগ পায় এ ব্যাপারে ব্যাংকের নীতি মালায় অর্š—ভূক্ত থাকতে হবে।
৭ নং পদক্ষেঃ মিডিয়া কল্যাণ ট্রাষ্ট গঠন করে বিভিন্ন কল্যান মূলক কার্যক্রম এবং যে সকল সংবাদ কর্মী অবসরে যাবেন তাদের জন্য এ কল্যান ট্রাষ্ট থেকে এককালীন ভাতা/ পেনশনের ব্যবস্থা রাখতে হবে।
৮ নং পদক্ষেপ ; কিছু কিছু সংবাদপত্রের মালিকপক্ষ কর্র্তৃক সরকারী নিয়ম অনুযায়ী সংবাদ কর্মীদেরকে বেতনভাতা প্রদানে বৈষম্য রয়েছে, বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষ সহানুভূতির সহিত বিবেচনা করার জন্য বিনয়ের সাথে নিবেদন করছি।
৯ নং পদক্ষেপ : কেউ কাউকে আঘাত দিয়ে নয়, কেউ কাউকে মনে কষ্ট দিয়ে নয়, প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে নিরপেক্ষ ও ন্যায় সংগতভাবে হযরত মোহাম্মদ (সঃ) এবং অন্যান্য মহা পুরুষদের শান্তির বানী প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে পৌছে দিয়ে একটি বাসযোগ্য নির্মল ও শান্তির আবাস ভুমি হিসেবে আমাদের দেশকে সুন্দর করে গড়ে তুলি, এই হোক আমাদের অঙ্গীকার। হযরত শাহজালাল (র.) হযরত শাহ পরান (র.) সহ ৩৬০ আউলিয়ার পূণ্যভূমি সিলেট থেকে এ মডেলের কাজ শুরু করা যেতে পারে, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনায় আনার জন্য শ্রদ্ধেয় গুনীজনদের সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। “আল্লাহ আমাদের সহায় হউন”।











