চলছে টাকার বাণিজ্য………. বিয়ানীবাজার ছাত্রলীগের কমিটিতে স্থান পেতে গ্র“পিং, তদবির
মিলাদ জয়নুল, বিয়ানীবাজার (সিলেট) থেকে:
বিয়ানীবাজার উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি ভেঙ্গে দেয়ার পর সম্ভাব্য কমিটিতে কারা স্থান পাচ্ছেন, এ নিয়ে চলছে নানাা জল্পনা-কল্পনা। জেলা ছাত্রলীগের আহবানে সম্মেলন কিংবা কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি গঠন হবে নাকি পছন্দমত চাপিয়ে দেয়া কমিটি আসবে, এ নিয়েও আছে নানা প্রশ্ন। তবে আসন্ন কমিটিতে স্থান পেতে ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে বহুমুখী তদবির, চলছে টাকার ছড়াছড়ি। কয়েক হাজার কর্মীর অপেক্ষাও যেন আর সইছে না। সমালোচকরা বলছেন, কমিটি নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বাণিজ্য। সূত্র জানায়, বিয়ানীবাজার উপজেলা, কলেজ ও পৌর ছাত্রলীগের কমিটি গঠনে কিংবা ঘোষণা করতে প্রায় তিন মাস সময় নিতে পারে জেলা ছাত্রলীগ। এর মধ্যে কোন্দল আরো তীব্র হবে, বাড়বে পদ-পদবীর মূল্যও।
জেলা ছাত্রলীগ কর্তৃক আহবায়ক কমিটি ভেঙ্গে দেয়ায় গ্র“পিংও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিয়ানীবাজার ছাত্রলীগে অসন্তোষ বিরাজমান। ছাত্রলীগের ত্রাহি অবস্থা নিয়ে বিগত সময়ে দলীয় সভানেত্রীকেও হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। যদিও ছাত্রলীগের কোন্দল নিরসন করা সম্ভব হয়নি। ছাত্রলীগের কমিটি নিয়ে বিয়ানীবাজারে একাধিকবার দাঙ্গা ফ্যাসাদ হয়েছে। জানা যায়, গত বছরের সেপ্টেম্বরের প্রথম দিকে বিয়ানীবাজারে সম্মেলনের তারিখ ঘোষণার চিঠি দেয় জেলা কর্তৃপক্ষ। গত ২৫ সেপ্টেম্বর জেলা ছাত্রলীগকে সম্মেলনের তারিখ জানানোর শেষ দিন ছিল। কিন্তু উপজেলা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে তাদেরকে এ বিষয়ে কিছুই জানানো হয়নি। জেলা ছাত্রলীগ কর্তৃক প্রেরিত সম্মেলনের চিঠি প্রাপ্তি নিয়েও চলে লুকোচুরি খেলা। তাই কবে এখানকার ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা হবে এ নিয়ে নেতাকর্মীরা পড়েন দ্বিধা দ্বন্দ্বে। এমনিতেই জটের কবলে পড়ে দীর্ঘ দিন থেকে গঠন হয়নি ছাত্রলীগের কমিটি। তবে চার গ্র“পে বিভক্ত ছাত্রলীগের উপজেলা, পৌর ও কলেজ কমিটি দ্রুত গঠনের জন্য জেলা ছাত্রলীগ থেকে চিঠি দেয়ার খবরে নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রাণ চাঞ্চ্যল্যের সৃষ্টি হয়ে হয়। এরই মধ্যে গত ২০ নভেম্বর ছাত্রলীগের আভ্যন্তরীন কোন্দলের জের ধরে আহত হন জেলা ছাত্রলীগের অর্থ সম্পাদক মাহমুদ হোসেন জুয়েল। এদিন রাতেই পাভেল-জুয়েল পক্ষের হামলায় রক্তাক্ত জখম হন ছাত্রলীগের আহবায়ক জামাল হোসেন। একাধিক নেতাকর্মী কারাভোগ করেন। আটকে যায় সম্মেলনের সকল কার্যক্রম। ছাত্রলীগের কোন্দল হানাহানি এবং রেষারেষির পর্যায়ে পৌঁছে। বিয়ানীবাজারে ছাত্রলীগের কোন ইউনিয়নে শাখা কমিটি নেই। পৌরসভা, কলেজ এবং পৌরসভার অধীনে থাকা ওয়ার্ডগুলোরও কমিটি নেই। বর্তমান নেতৃত্বে আসতে আগ্রহীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন আতিকুর রহমান, কামিল আহমদ, ওয়াহিদুর রহমান টিপু, ইকবাল হোসেন, হোসেন আহমদ, নজমুল ইসলাম, পাভেল মাহমুদ, মাহমুদ হোসেন জুয়েল, মোস্তাক আহমদ, আমান উদ্দিন, রেজাউল আলম অপু, কলিম উদ্দিন, আকবর হোসেন লাভলু, আজহার হোসেন রিফাত, জুনেদ আহমদ, ওয়াহিদুজ্জামান টিটন, কে.এইচ সুমন, সম্রাট শেখর, রাজু আহমদ, আবুল খয়ের, কামাল আহমদ, শামীম আহমদ প্রমুখ। সার্বিক বিষয় নিয়ে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি পঙ্কজ পুরকায়স্ত বলেন, জেলা ছাত্রলীগের আহবানে সিলেটে কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি গঠন করা যায় কিনা সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিছবাহ উদ্দিন সিরাজ এ প্রসঙ্গে বলেন, ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সবকিছু করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেয়া হবে।











